ইসরায়েলে সরকার গঠনের চাবি কি আরব দলগুলোর হাতে?

ইসরায়েলে সরকার গঠনের চাবি কি আরব দলগুলোর হাতে?
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

ইসরায়েলের নির্বাচনে সরকার গঠনের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের শিবির—কোনোটিই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি বলে ২৮ অক্টোবরের আংশিক হিসাব থেকে জানা গেছে। ফলে শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। আংশিক হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর শিবির ৫৪টি, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির ৪৯টি এবং আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৭টি আসন পেতে পারে। তবে ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসার সুযোগ রয়েছে।

সংখ্যার হিসাবে আরব দলগুলো এমন এক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে তাদের সমর্থন সরকার গঠনের আলোচনা ও সংসদীয় সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তাদের সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন একেবারেই অসম্ভব—এমন নয়। নেতানিয়াহুর জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য আরও আসন ও রাজনৈতিক মিত্রের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে বিরোধী শিবিরকেও ৬১ আসনের সীমা অতিক্রম করতে অতিরিক্ত সমর্থন প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অবস্থান বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। নেতানিয়াহুর শিবির আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইজেনকোটের বিরোধী শিবিরও নির্বাচনী প্রচারে আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোটের বিষয়ে অনীহা দেখিয়েছে। ফলে বিরোধী দলগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছালেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা কঠিন হতে পারে।

আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসনসংখ্যা ১৭ বা তার কাছাকাছি থাকলে সরকার গঠনের আলোচনায় তাদের গুরুত্ব বাড়তে পারে। সরাসরি মন্ত্রিসভায় যোগ না দিয়েও তারা সংসদে নির্দিষ্ট বিষয়ে কোনো জোটকে সমর্থন দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে আরব নাগরিকদের নিরাপত্তা, অপরাধ দমন, বৈষম্য কমানো এবং নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর মতো বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। তবে দলগুলো কী ধরনের শর্ত দেবে বা কোন পক্ষকে সমর্থন করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এরপর সংশ্লিষ্ট নেতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করবেন।

দলগুলোর আলোচনা সফল না হলে ইসরায়েলের রাজনীতিতে দীর্ঘ অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করা না গেলে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই এবারের নির্বাচনে কে সবচেয়ে বেশি আসন পেল, তার পাশাপাশি কোন পক্ষ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে পারে, সেটিই হয়ে উঠছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗